আমার আর গল্প লেখা হলোনা

আমি টুকটাক দু চার লাইন করে কবিতা লিখি যদিও জানিনা তা কবিতা হয় কিনা, কিন্তু গল্পটা আমাকে দিয়ে হচ্ছে না। সবাই সুন্দর ভাবে গল্প লেখে আর আমি মাথার চুল ছিড়ি। 

আজ আমি গল্প লিখবই। যে করেই হোক। সে ভাবনা থেকেই কলম নিয়ে বসে পরলাম। কিন্তু কলমের মাথা দিয়ে কিছুই বের হয় না। হবে কিভাবে আগেতো আমার মাথায় কিছু আসতে হবে। না আমাকে দিয়ে হবে না বসে রইলাম অনেকক্ষন। হঠাৎ কল্লোলের ফোন......... 
"এই তুই কোথায়?" 
"আমি বাসায়।" আমি জবাব দিলাম। 
"তাড়াতাড়ি ভার্সিটিতে আয়।" 
"কেন? ক্লাসেরতো এখনো অনেক দেরী। একটি গল্প লিখছি........" 
"তোর মাথা দিয়ে বের হবে গল্প!! থাক তোর সাহিত্যে নোবেল জেতার চেষ্ঠা করে লাভ নাই। ভার্সিটিতে আয় কিছু কথা আছে তোর সাথে।" 
"আচ্ছা অপেক্ষা কর।" বলে ফোনটি রেখে দিলাম। 


অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমাকে গল্প লেখা বাদ দিয়ে উঠতে হলো। 
রেডি হয়ে বাস স্টেন্ডে গিয়ে বাসের জন্য দাড়িয়ে থাকলাম। প্রখর রোদে বাসের জন্য দাড়িয়ে থাকতে থাকতে ঘেমে গোসল করে ফেলেছি। অপেক্ষার প্রহর শেষ করে বাস আসার সাথে সাথে লাফিয়ে বাসে উঠে একটি হ্যান্ডেল ধরে কোন মতে বানরের মত ঝুলে পড়লাম। বাসে চাপাচাপিতে কোন দিকে নজর রাখব। এত মানুষের ভিড়ে আমার আদরের মানিব্যাগ বা মোবাইল কখন আমাকে রেখে অন্যের হাত ধরে চলে যাব তা উপরওয়ালায় জানেন। ভার্সিটির সামনে এসে হেলপারের কাছে ভাড়া দিয়ে নেমে গেলাম। 

কল্লোলকে দেখলাম একটি মেয়েকে নিয়ে দাড়িয়ে আছে। আমাকে দেখেই ডাক দিল..
"এই তাড়াতাড়ি আয়। পরিচিত হ এই হলো জুই যার সাথে মোবাইলে পরিচয় হওয়ার পর আজই প্রথম দেখা করলাম।" 
আমি বললাম. "পরিচিত হয়ে ভাল লাগল। তা আপনি কি করেন?" 
কল্লোল আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলল, "আরেকদিন ওসব জানিস ওর হাতে সময় নাই। শুধু তোকে দেখার জন্যই ওয়েট করছিল। তুই দাড়া আমি ওকে এগিয়ে দিয়ে আসছি।" 
"ভাইয়া আসি". বলে জুই জুই ফুলের গন্ধ ছড়িয়ে আমার সামনে দিয়ে চলে গেল। আমি অবাক হয়ে তার চলে যাওয়া দেখলাম। আর জমিয়ে রাখা শ্বাসগুলো থেকে একটা র্দীঘশ্বাসকে আমার কাছ থেকে ছেড়ে দিলাম । 

কল্লোল আসলে তাকে জিজ্ঞেস করলাম "মোবাইলে কিভাবে ওর সাথে পরিচয়। রং নাম্বারে নাকি অন্যকোন ফ্রেন্ডের মাধ্যমে।" 
"এখন বলব না, সময় হলে জানতে পারবে।" এই বলে সে কথা এড়িয়ে গেল। ওর কথায় হালকা রহস্যের ঘ্রাণ পেলাম। 

তারপর ক্লাস করে সরাসরি বাসায় চলে আসলাম। খাওয়া দাওয়া করে হালকা ঘুম দিলাম। ঘুম থেকে উঠে আবার বসলাম গল্প লেখার জন্য। কিন্তু গল্প লেখার মত কোন শব্দ বা বাক্য মাথা থেকে আসে না। ভাবলাম দেখি কোন প্রেমের গল্প লেখা যায় কিনা। কিন্তু প্রেমের গল্প লিখতে গেলে প্রেমের অভিজ্ঞতা লাগে যা এই অধমের নাই। আমাকে দিয়ে হবেনা গল্প নামক কোন সাহিত্য রচনা করা। তাই ঝিম মেরে পরে রইলাম। 

হঠাৎ খেয়াল করলাম আমার মোবাইলটা করুন সুরে কান্না করছে। কে যেন আমায় ডেকেছে। মোবাইলটা নিয়ে হ্যালো বলার সাথে সাথে ও পাশ থেকে একটি অপরিচিত নারী কন্ঠ ভেসে আসল। আমার মোবাইলে সাধারনত ভার্সিটির ছোট বোনেরা কোন সমস্যায় পরলে কল করে এছাড়া অন্যকোন মেয়ের কল আসে না। তাই একটু অবাক হলাম। 
জিজ্ঞেস করলাম "কে বলছেন?" 
"আমি জুই আপনার ফ্রেন্ড তখন পরিচয় করিয়ে দিল।" সে উত্তর দিল। 
"ও তা আমার নম্বর কে দিল?" 
"আপনার ফ্রেন্ডের মোবাইল থেকে নিলাম।" 
"আচ্ছা বলুন কি কারনে এই অথমকে স্বরন করলেন।" 
"এভাবে বলছেন কেন?" 
"না, কেউ কোন সমস্যায় না পরলেতো আমাকে স্বরন করেনা তাই বললাম। " 
"না আমি কোন সমস্যায় পরিনি, আপনার সম্বন্ধে জানার জন্যই মুলত কল করা। বিরক্ত হচ্ছেন নাতো?" 
"না বলুন" 
এভাবে ওর সাথে অনেকক্ষন কথা হলো। 

প্রতিদিনই সে আমাকে কল দেয়। ঘুমানোর আগে কল দেয়, আমাকে ঘুম থেকে ডেকে দেয়। 
আমি আবার গল্প লেখা আবার শুরু করলাম। প্রেমের গল্প। একটি ছেলের ও একটি মেয়ের গল্প। কল্লোলের সাথে জুইয়ের প্রেমই আমার গল্পের মুল কাহিনী। অনেকদুর লেখে ফেললাম। 

জুইয়ের মাঝে ইদানিং পরির্বতন লক্ষ্য করছি। সে নাকি কল্লোলকে আর কল দেয় না। কল্লোলকে জিজ্ঞেস করে দেখলাম সেও এটাকে কোন গুরুত্ব দিচ্ছে না। আমার লেখা প্রেমের গল্প কি তাহলে বিচ্ছেদের গল্পে রুপ নিবে। আমি চিন্তায় পরে গেলাম। 

রাতে জুই কল দিল। তার গলাটা কেমন যেন ধরে আসছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে? সে বলল "তুমি আমার বাবা মায়ের সাথে দেখা করতে পারবে।" 

এই প্রথম সে আমাকে তুমি করে বলল। আমি ভ্যাবাছ্যাকা খেয়ে বললাম "কেন?" 
সে বলল "আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে এক আমেরিকা প্রবাসী ছেলের সাথে। কিন্তু আমি তোমাকে ছাড়া আর কাউকে চাই না।" 
আমি কি বলব ভেবে পেলাম না। তাকে বললাম, "দেখো বাবা মায়ের কথা মেনে চলা উচিত। তারা নিশ্চয় তোমার খারাপ চায় না। তুমি তাদের পছন্দের পাত্রকে বিয়ে কর। তোমার জীবন সুখি হোক তাই আশাকরি।" 
আর কোন কথা না বাড়িয়ে সে লাইনটি কেটে দিল। অনেক চেষ্ঠা করেও আর তার নম্বরে কল ঢুকাতে র্ব্যথ হয়ে কল্লোলকে কল দিলাম। 

তাকে জিজ্ঞেস করলাম তার সাথে জুইয়ের কিছু হয়েছে কিনা। জুই এই মাত্র আমাকে যে কথাগুলো বলল তা তাকে বললাম। 

কল্লোল এখন রহস্য ভাঙল.." আমি তোকে মিথ্যা বলেছি। জুইয়ের সাথে আমার মোবাইলে পরিচয় হয়নি। সে আমার কাজিন এবং ভাল বন্ধু। আমার কাছে তোর কথা শুনে তোকে সে দেখতে চেয়েছিল। কিন্তু পরিচয় দিতে নিষেধ করেছিল। তাই তোকে কিছু বলিনি। ও তোকে চাইত সবসময়, কিন্তু এখন তার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। " 

আমি বুঝতে পারলাম আমার আর গল্প লেখা হবে না। আমার গল্পটি একটি অসমাপ্ত প্রেমের অসমাপ্ত গল্প হয়েই থাকবে। 

বিঃদ্রঃ বাস্তবতা বিবর্জিত লেখা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বৈঠকঘর