হুলপুর উপজেলার চরাচর ইউনিয়নের কামড়াকান্দি গ্রাম। গ্রামটি সবসময়ই শান্ত। সবাই সুখে শান্তিতে বসবাস করে এই গ্রামে। কিন্তু কিছুদিন যাবত এই গ্রামটিতে অশান্তি দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে কিছু ঘাতক কোথা থেকে এসে যেন গান গাওয়া শুরু করে এবং সবার গায়ের উপর পরতে থাকে।
এই গ্রামেই বাস করত থাপ্পর বেপরীর একমাত্র নাতী কিলাকার। গ্রামের মত তার নাতীও শান্ত। কারো সাথে নেই, কারো পাশে নেই। সারাদিন জমিতে কাজ করে রাতে এসে ঘুমায়।
ঐ ঘাতকদের অত্যাচারে কিলাকারের মেজাজ হঠাৎ বিগড়ে গেল। কয়েকটি ঘাতককে সামনে পেয়ে দিল এক রাম থাপ্পর। সাথে সাথে তিনটি ঘাতক ঘঠনাস্থলেই মারা যায় এবং আরো অনেক ঘাতক আহত হয়ে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর সাথে পান্জ্ঞা লড়ছে।
ঐ পথ দিয়ে আমার কয়েকজন সাগরেদ যাচ্ছিল রাতের খাবারের এন্তেজাম করতে। তারা শুনতে পেল এক লোক চিৎকার করে বলছে "সবাই তাড়াতাড়ি আসেন, এক থাপ্পরে তিনজন মারা গেছে।"
এক সাগরেদ তাড়াতাড়ি আমার কাছে আসল এই খবর নিয়ে। আমি হন্তদন্ত হয়ে গেলাম ঘঠনাস্থলে। গিয়ে দেখলাম ঘঠনা ঠিক। এক থাপ্পরে তিনজন মারা গেছে। লাশগুলোকে একটি গ্লাসের ভিতরে রাখা হয়েছে। আরা আহতরা বিনা চিকিৎসায় কাতরাচ্ছে।
আমি সাগরেদদের তাদের কাজে পাঠিয়ে চলে আসছিলাম তখন এক সাংবাদিকের সাথে দেখা। রুপকথার দুনিয়া ছেড়ে ডিজিটাল দুনিয়ায় এসে ব্লগে লেখালেখির সাথে যুক্ত হওয়ার পর ইতিমধ্যে আমার অনেক নামডাক হয়েছে। তাই ঐ সাংবাদিক তার পত্রিকার নাম মনে হয় "জলের তলে" আমাকে জিজ্ঞেস করল "পন্ডিত মশায় , কে নাকি থাপ্পর দিয়ে ৫জন মেরে ফেলেছে আপনি কিছু জানেন নাকি এই ব্যাপারে?" আমি বললাম " মেরেছে ঠিক আছে তবে তা ৫জন নয়, আপনি নিজে গিয়ে দেখে আসুন।"
ঐ সাংবাদিকের কাছ থেকে চলে আসার পথে দেখা "কলম নাই" পত্রিকার সাংবাদিকের সাথে। সে বলল" পন্ডিত মশায় কার হাতে নাকি ৭ জন মারা গেছে জানেন নাকি কিছু?" আমি আগের মত কথা বলে কাটিয়ে আসলাম।
তারপর দেখা "চ্যানেল নাই" টিভির রিপোর্টারের সাথে। সে আমাকে দেখেই বলা শুরু করল " এখন আমরা কথা বলব বিখ্যাত শিয়াল পন্ডিতের সাথে যিনি রুপকথার দুনিয়া কাপিয়ে এখন ডিজিটাল দুনিয়া কাপাচ্ছেন।"
আমার দিকে উনার মাইক ফিরিয়ে বলল " আচ্ছা পন্ডিত মশাই, আপনিতো ঐ দিক থেকেই আসছেন আমরা শুনলাম এক লোক নাকি রাক্ষস হয়ে থাপ্পর দিয়ে লোক মেরে তার গ্লাসে রাখছে আপনি এই ব্যাপারে কি জানেন?" আমি বললাম "শোনা কথায় কান দিতে নাই, আগে নিজে গিয়ে দেখে আসুন তারপর রিপোর্ট করুন। ধন্যবাদ।"
আমি বুঝতে পারলাম এই ডিজিটাল যুগে সংবাদ বাতাসের আগে চলে। কিন্তু সংবাদটি কতটুকু সঠিক তা যাচাই হয় বলে মনে হয় না। সবাই এখানে শোনা কথায় বিশ্বাসী। নিজের মনের মতো করে সবাই সংবাদ সাজিয়ে পাবলিকদের খাওয়াতে ওরা উৎগ্রীব।
পরেরদিন সকাল
প্রতিদিনের অভ্যাসবসত ঘুম থেকে উঠেই পত্রিকাটা হাতে নিলাম। পত্রিকাটি খুলতে খুলতেই প্রথম পাতার হেটলাইনে বড় বড় করে লেখা “রাক্ষসের হাতে ১০জন নিহত” দেখে চোঁখ আটকে গেলো । হেডলাইনটি দেখে আমার ভিতর অজানা ভয় এসে গেলো। তারপর পড়তে শুরু করলাম কি লেখা আছে।
রাক্ষসের হাতে ১০জন নিহতঃ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ হুলপুর উপজেলার কামড়াকান্দি গ্রামের একলোক হঠাৎ রাক্ষস হয়ে যায়। হলিউডের সাড়া জাগানো ছবি হাল্কের মতো করে সে হঠাৎ মস্ত দানব হয়ে যায় এবং সামনে কয়েকজনকে পেয়ে একটি থাপ্পর দেয়। তার থাপ্পরে ১০জন ঘঠনাস্থলেই নিহত হয় এবং আরো অনেকে আহত হয়েছে বলে শোনা যায়। তবে সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যায়নি। এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। পুলিশ ঐ রাক্ষসরুপী লোকটিকে এখনো কিছুই করতে পারেনি। সে লোক প্রকাশ্য দিবালোকে সবার সামনে ঘুরে বেরাচ্ছে। এলাকাবাসী ঐ লোককে গ্রেফতারের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির শোক প্রকাশঃ
উক্ত ঘঠনায় প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের স্বরনে দুই দিনের জাতীয় শোক পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী উক্ত রাক্ষসরুপী লোকটিকে গ্রেফতারের ব্যাপারে প্রয়োজনে এফ বি আই অথবা ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এবং কাউকে আতংকিত না হয়ে নিজ নিজ কাজ করে যেতে বলেছেন।
উক্ত খবর দুটি পড়ে আমি ভেবে পেলাম না এই ঘঠনাটি কিভাবে এতদুর গেলো। ঘঠনাতো কাল রাতেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। হয়ত ঘঠনাস্থলে আসার আগেই কেউ শোনা কথায় কান দিয়ে সব মিডিয়ায় প্রচার করে দিয়েছে এবং মিডিয়া থেকে চলে গেছে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কানে। মিডিয়া পরে সত্য জেনেও হয়ত প্রকাশ করছে না।
যাহোক মিডিয়ার কল্যাণে আজ ও আগামী কাল শোকদিবস পালন করব। জয় হোক মিডিয়ার।
এই গ্রামেই বাস করত থাপ্পর বেপরীর একমাত্র নাতী কিলাকার। গ্রামের মত তার নাতীও শান্ত। কারো সাথে নেই, কারো পাশে নেই। সারাদিন জমিতে কাজ করে রাতে এসে ঘুমায়।
ঐ ঘাতকদের অত্যাচারে কিলাকারের মেজাজ হঠাৎ বিগড়ে গেল। কয়েকটি ঘাতককে সামনে পেয়ে দিল এক রাম থাপ্পর। সাথে সাথে তিনটি ঘাতক ঘঠনাস্থলেই মারা যায় এবং আরো অনেক ঘাতক আহত হয়ে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর সাথে পান্জ্ঞা লড়ছে।
ঐ পথ দিয়ে আমার কয়েকজন সাগরেদ যাচ্ছিল রাতের খাবারের এন্তেজাম করতে। তারা শুনতে পেল এক লোক চিৎকার করে বলছে "সবাই তাড়াতাড়ি আসেন, এক থাপ্পরে তিনজন মারা গেছে।"
এক সাগরেদ তাড়াতাড়ি আমার কাছে আসল এই খবর নিয়ে। আমি হন্তদন্ত হয়ে গেলাম ঘঠনাস্থলে। গিয়ে দেখলাম ঘঠনা ঠিক। এক থাপ্পরে তিনজন মারা গেছে। লাশগুলোকে একটি গ্লাসের ভিতরে রাখা হয়েছে। আরা আহতরা বিনা চিকিৎসায় কাতরাচ্ছে।
আমি সাগরেদদের তাদের কাজে পাঠিয়ে চলে আসছিলাম তখন এক সাংবাদিকের সাথে দেখা। রুপকথার দুনিয়া ছেড়ে ডিজিটাল দুনিয়ায় এসে ব্লগে লেখালেখির সাথে যুক্ত হওয়ার পর ইতিমধ্যে আমার অনেক নামডাক হয়েছে। তাই ঐ সাংবাদিক তার পত্রিকার নাম মনে হয় "জলের তলে" আমাকে জিজ্ঞেস করল "পন্ডিত মশায় , কে নাকি থাপ্পর দিয়ে ৫জন মেরে ফেলেছে আপনি কিছু জানেন নাকি এই ব্যাপারে?" আমি বললাম " মেরেছে ঠিক আছে তবে তা ৫জন নয়, আপনি নিজে গিয়ে দেখে আসুন।"
ঐ সাংবাদিকের কাছ থেকে চলে আসার পথে দেখা "কলম নাই" পত্রিকার সাংবাদিকের সাথে। সে বলল" পন্ডিত মশায় কার হাতে নাকি ৭ জন মারা গেছে জানেন নাকি কিছু?" আমি আগের মত কথা বলে কাটিয়ে আসলাম।
তারপর দেখা "চ্যানেল নাই" টিভির রিপোর্টারের সাথে। সে আমাকে দেখেই বলা শুরু করল " এখন আমরা কথা বলব বিখ্যাত শিয়াল পন্ডিতের সাথে যিনি রুপকথার দুনিয়া কাপিয়ে এখন ডিজিটাল দুনিয়া কাপাচ্ছেন।"
আমার দিকে উনার মাইক ফিরিয়ে বলল " আচ্ছা পন্ডিত মশাই, আপনিতো ঐ দিক থেকেই আসছেন আমরা শুনলাম এক লোক নাকি রাক্ষস হয়ে থাপ্পর দিয়ে লোক মেরে তার গ্লাসে রাখছে আপনি এই ব্যাপারে কি জানেন?" আমি বললাম "শোনা কথায় কান দিতে নাই, আগে নিজে গিয়ে দেখে আসুন তারপর রিপোর্ট করুন। ধন্যবাদ।"
আমি বুঝতে পারলাম এই ডিজিটাল যুগে সংবাদ বাতাসের আগে চলে। কিন্তু সংবাদটি কতটুকু সঠিক তা যাচাই হয় বলে মনে হয় না। সবাই এখানে শোনা কথায় বিশ্বাসী। নিজের মনের মতো করে সবাই সংবাদ সাজিয়ে পাবলিকদের খাওয়াতে ওরা উৎগ্রীব।
পরেরদিন সকাল
প্রতিদিনের অভ্যাসবসত ঘুম থেকে উঠেই পত্রিকাটা হাতে নিলাম। পত্রিকাটি খুলতে খুলতেই প্রথম পাতার হেটলাইনে বড় বড় করে লেখা “রাক্ষসের হাতে ১০জন নিহত” দেখে চোঁখ আটকে গেলো । হেডলাইনটি দেখে আমার ভিতর অজানা ভয় এসে গেলো। তারপর পড়তে শুরু করলাম কি লেখা আছে।
রাক্ষসের হাতে ১০জন নিহতঃ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ হুলপুর উপজেলার কামড়াকান্দি গ্রামের একলোক হঠাৎ রাক্ষস হয়ে যায়। হলিউডের সাড়া জাগানো ছবি হাল্কের মতো করে সে হঠাৎ মস্ত দানব হয়ে যায় এবং সামনে কয়েকজনকে পেয়ে একটি থাপ্পর দেয়। তার থাপ্পরে ১০জন ঘঠনাস্থলেই নিহত হয় এবং আরো অনেকে আহত হয়েছে বলে শোনা যায়। তবে সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যায়নি। এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। পুলিশ ঐ রাক্ষসরুপী লোকটিকে এখনো কিছুই করতে পারেনি। সে লোক প্রকাশ্য দিবালোকে সবার সামনে ঘুরে বেরাচ্ছে। এলাকাবাসী ঐ লোককে গ্রেফতারের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির শোক প্রকাশঃ
উক্ত ঘঠনায় প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের স্বরনে দুই দিনের জাতীয় শোক পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী উক্ত রাক্ষসরুপী লোকটিকে গ্রেফতারের ব্যাপারে প্রয়োজনে এফ বি আই অথবা ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এবং কাউকে আতংকিত না হয়ে নিজ নিজ কাজ করে যেতে বলেছেন।
উক্ত খবর দুটি পড়ে আমি ভেবে পেলাম না এই ঘঠনাটি কিভাবে এতদুর গেলো। ঘঠনাতো কাল রাতেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। হয়ত ঘঠনাস্থলে আসার আগেই কেউ শোনা কথায় কান দিয়ে সব মিডিয়ায় প্রচার করে দিয়েছে এবং মিডিয়া থেকে চলে গেছে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কানে। মিডিয়া পরে সত্য জেনেও হয়ত প্রকাশ করছে না।
যাহোক মিডিয়ার কল্যাণে আজ ও আগামী কাল শোকদিবস পালন করব। জয় হোক মিডিয়ার।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন